বাক্যলাইফস্টাইলহোমপেজ স্লাইড ছবি

কফি চাষ শুরু হয় যেভাবে

কফির আদি জন্মস্থান ইথিওপিয়ার কাফা অঞ্চলে। ঈষৎ উত্তেজক হিসেবে সেখানে কফির পাতা চিবিয়ে খাওয়ার প্রচলন ছিল। এমন কথা জানা যায় যে, ইথিওপিয়াতে নবম শতকে কালদি নামের একজন ছাগল পালক প্রথম তার ছাগলদের বেরি জাতীয় গাছ থেকে ফল খেতে দেখে। পরবর্তীতে সে লক্ষ্য করে যে তার ছাগলগুলো সারারাত না ঘুমিয়ে পার করে দেয়। একদল সন্ন্যাসীকে তার পর্যবেক্ষণ জানানোর পর ঐ ফল থেকে পানীয় তৈরি করে তারা; উদ্দেশ্য ছিল সারারাত জেগে প্রার্থনা করা। এরপরে কফি সৌদি আরবে পৌঁছয়।

সেখানেই চতুর্দশ শতকে প্রথম কফির চাষ শুরু হয়। আরব বণিকরা রাজকর্মচারীদের পান করানোর জন্য কফির বীজ এদেশে নিয়ে আসেন। সপ্তদশ শতকের মধ্যে আরব বণিকরাই কফির বীজ এবং চারা দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছে দেন। দক্ষিণ ভারতেও একই সময় কফির চাষ হয়। পৃথিবীর প্রায় ৭০টি দেশে এই গাছ জন্মে। কফি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিক্রিত পণ্য।

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি কফি, ব্ল্যাক আইভরি কফি। প্রথমে হাতিকে খাওয়ানো হয় কফি ফল, সেই ফল হজম করতে সময় লাগে সতেরো ঘন্টা। যখন হাতি মল ত্যাগ করে, তখন কফির দানা পাওয়া যায়। মল তুলে নিয়ে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মল থেকে কফির দানা আলাদা করা হয়। এক কেজি কফি পেতে হাতিকে খাওয়ানো হয় তেত্রিশ কেজি কফি ফল।

এক কেজি ব্ল্যাক আইভরির দাম, বারোশো মার্কিন ডলার। উপমহাদেশে কফির চারা আসা সম্পর্কে জানা যায় ১৭২০ সালে সুফি সাধক বাবা বুদান মক্কা থেকে হজ সেরে ৭টি কফির চারা এনে কর্নাটকের চিকমাগালুরে তাঁর গুহার সামনে রোপণ করেন। ১৮৩০ সাল নাগাদ ইংরেজরা কফির বাণিজ্যিক আবাদ শুরু করে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker